সাইবার সচেতনতায় বরিশাল মেডিকেলে সেমিনার অনুষ্ঠিত

৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৩০  

দেশের ৫১% সাইবার ক্রাইম সংঘঠিত হয় ফিশিং এর মাধ্যমে। আর এই ফিশিং থেকে কিংবা ভুয়া অ্যাপে প্রতারণার মতো বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে কাজ শুরু করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ)। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কেন্দ্রে "নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ" নিয়ে সেমিনার করলো সংস্থাটি। সেমিনারে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, সাইবার বুলিং এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর আয়োজনে দিনব্যাপী সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আজিজুল হক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ জি এম নাজিমুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি এর মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রাশিদ আল আসিফ।

সেমিনারের আলোচনার শুরুতেই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ডাঃ মোঃ আজিজুল হক উপস্থিতিদের বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি এবং মোবাইল স্ক্যাম নিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

এছাড়াও সাইবার স্পেসে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন আবু সাঈদ মো: কামরুজ্জামান। সাইবার  নিরাপত্তায়  দেশের সাইবার স্পেসকে সুরক্ষিত রাখতে নতুন অনুমোদিত সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর প্রয়োজনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিতকরণে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি’র কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি মহাপরিচালক। এছাড়াও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এর বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা এবং সবাইকে স্মার্ট সিটিজেন হতে হলে কি করণীয় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন তিনি।

সেমিনারের আলোচক মোঃ রাশিদ আল আসিফ বাংলাদেশের ব্যাংকে সংঘঠিত সাইবার হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি দেশে বিদেশে ঘটে যাওয়া সাইবার ক্রাইমের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিনি দেশে সাইবার নিরাপত্তা আইন খুবই প্রয়োজন ছিল মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন।

সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরষ্কার ২০২০ বিজয়ী সাদাত রহমান তার আলোচনায় কিশোর-কিশোরী বিশেষ করে নারীদের সাইবার বুলিং এর বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করেন এবং সাইবার বুলিং এর শিকার হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনকৃত হটলাইন নম্বর ১৩২১৯ হটলাইনে জানানোর জন্য বলেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীগণ নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, সাইবার সিকিউরিটি, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন উপস্থাপন করেন। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপক, আলোচকবৃন্দ এবং এনসিএসএ’র কর্মকর্তারা সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।